বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির পথে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

khosru
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এখন সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জনসম্পৃক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা সহজ নয়। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বিপুল ঋণের বোঝা, উচ্চ সুদ পরিশোধের চাপ এবং বিভিন্ন আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও দেশের প্রতিটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভবিষ্যতে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে হবে। অতীতে টাকা ছাপিয়ে এবং ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সরকারের বাজেটের একটি বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে ঋণের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

সংকটের অর্থনীতিতে স্বপ্নের বাজেট, হিসাব মিলবে তো?

খসরু বলেন, অর্থনীতির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে এবং উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছরে দেশে বিনিয়োগ কার্যত স্থবির ছিল। তবে বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে চায়। এজন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন হতে হবে যা দেশের মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। সরকার যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আমীর খসরু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন হলেও সরকার আশাবাদী। অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে, তবে একটি ভালো সূচনা করা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও টেকসই ও গতিশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর