কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি; বরং উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) জেলা পরিষদের এক অনুষ্ঠানে পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কুমিল্লার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মূলত উপজেলার জন্য নেওয়া বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এ অর্থ কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত কাজে দেওয়া হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো: হাসনাত আবদুল্লাহ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসক অর্থটি রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তা সঠিক নয়। এটি জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ নয়; বরং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের আওতায় দেওয়া বরাদ্দ।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, দেবীদ্বার উপজেলায় কোন খাতে এবং কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্যগুলো প্রকাশের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন উৎস থেকে বরাদ্দ আনার চেষ্টা করা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সংসদ সদস্যের দাবি, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে অর্থটি দেওয়া হয়েছিল, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল এবং তা এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করা হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের সঙ্গে ওই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টিএই




