ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে নেমে এসেছে নীরবতা। বছরের অন্য সময় যে বাজারগুলো ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম থাকে, সেগুলোতে এখন অনেকটা সুনসান নিরবতা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত দেখা গেছেমিরপুর ৬ কাঁচাবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও কাজীপাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি অত্যন্ত কম।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন ফুটপাতের বাজারে স্বাভাবিক দিনের মতো ভিড় নেই। মিরপুর ১,মিরপুর ৬, মিরপুর ১০ ও কাজীপাড়া এলাকার কাঁচাবাজারগুলোতে হাতে গোনা কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। সবজি, ফল ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় কাটাচ্ছিলেন।

কাজীপাড়া এলাকার এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ঈদের সময় এমন হয়েই থাকে। মানুষ গ্রামের বাড়ি চলে যায়, তাই বিক্রি কমে যায়। সকালে কিছু ক্রেতা এলেও এখন একদম ফাঁকা। সাধারণ দিনে যেখানে কয়েক ঘণ্টায় সবজি শেষ হয়ে যায়, আজ সেখানে সারাদিন বসেও বিক্রি হচ্ছে না।
কাজীপাড়া এলাকায় বাজার করতে আসা রুবিনা আক্তার বলেন, ঈদের আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা প্রায় শেষ করেছি। আজ কিছু সবজি আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিতে এসেছি। বাজার ফাঁকা থাকায় কেনাকাটা করতে সময় কম লাগছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে শান্তিনগর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত ফুটপাতের কাঁচাবাজারে সকালবেলা কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে আসে। ভোরে অল্প কিছু বিক্রেতা পণ্য নিয়ে বসেন এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ক্রেতা আসেন। এরপর বাজার কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়।

শান্তিনগর ফুটপাতের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে করলা, কাঁচামরিচ, আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করেন নাদিম। তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরে নরসিংদী থেকে কলা নিয়ে আসি। স্বাভাবিক দিনে ভালো বিক্রি হয়, কিন্তু ঈদের ছুটিতে মানুষ নেই বললেই চলে। আজকে সকালেও খুব কম বিক্রি হয়েছে।
মালিবাগের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, ঢাকায় মানুষ কমে যাওয়ার প্রভাব বাজারেও দেখা যাচ্ছে। সাধারণ দিনের তুলনায় আজ অনেক ফাঁকা। দ্রুত বাজার করে চলে যেতে পারছি।
এদিকে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা অস্থায়ী কাঁচাবাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। সবজি, মাছ ও ফলের দোকানগুলোতে বিক্রেতারা অপেক্ষা করলেও ক্রেতা ছিল হাতে গোনা। অনেক দোকান পুরোপুরি বন্ধও দেখা গেছে।
মিরপুর ১০ এলাকার ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা কালাম মিয়া জানান, ছুটির সময় ব্যবসা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এবার ক্রেতার সংখ্যা আরও কম মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, সকালে কিছু মানুষ আসে, তারপর আর তেমন কেউ থাকে না। বিকেল পর্যন্ত বসে থাকতে হয়।
মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় আরেক সবজি বিক্রেতা বলেন, ঈদের সময় বিক্রি কমে যায়, এটা নতুন কিছু না। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে আগের চেয়েও কম। তবে ছুটি শেষে মানুষ ফিরলে আবার স্বাভাবিক হবে।
মিরপুর ৬ এলাকার বাসিন্দা আফসানা বেগম বাজার করতে এসে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাজারে ভিড় কম থাকায় কেনাকাটা করতে সুবিধা হচ্ছে। তবে অনেক দোকান বন্ধ থাকায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
শেওড়াপাড়ার ফুটপাতের বাজারেও ছিল একই অবস্থা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। স্থানীয়রা জানান, সাধারণ সময়ে এই বাজারে হাঁটার জায়গা থাকে না, কিন্তু ঈদের ছুটিতে পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

শেওড়াপাড়া ফুটপাতের বাজারে সবজি বিক্রি করেন মো. সোহেল। তিনি বলেন, সাধারণ দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। কিন্তু এখন মানুষ নেই বললেই চলে। যারা ঢাকায় আছে, তারাও প্রয়োজন ছাড়া বাজারে আসছে না। তাই বিক্রি অনেক কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ বা দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নগরজীবনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দৈনন্দিন কাঁচাবাজার ও ছোট ব্যবসার ওপর।
এএইচ/এআরএম




