দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের প্রভাব আরো স্পষ্ট হয়েছে গত সপ্তাহে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় বাজার মূলধন কমেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক ও লেনদেনের গতি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই সূচকের পতন হয়েছে। এতে দাম বাড়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে।
বিজ্ঞাপন
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ২২২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টি প্রতিষ্ঠানের।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা।
এদিকে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহেও সূচক কমেছিল ১১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ।
তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সূচকটি সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
লেনদেনেও ছিল নিম্নমুখী ধারা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ।
টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এনসিসি ব্যাংক এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এ ছাড়া শীর্ষ লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে মুন্নু সিরামিক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, জিকিউ বলপেন ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।
এমআর/এফএ




