রাজস্ব কাঠামোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালুর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল অটোমেশন নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে, ব্যবসার ব্যয় কমবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে মোট ৫৪টি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে জমা দিয়েছে ডিসিসিআই।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ এপ্রিল) এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা ঢাকা চেম্বার এই ৫৪টি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে উপস্থাপন করে।
ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাবনার মধ্যে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা, আমদানিতে অগ্রিম কর ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন অন্যতম প্রস্তাব।
প্রস্তাবনা উপস্থাপনের সময় ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস, ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ, রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে অটোমেশন এখন সময়ের দাবি। এতে ব্যবসার ব্যয় কমবে এবং রাজস্ব আহরণও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী কর প্রশাসনে কেন্দ্রীয় এপিআই ইন্টিগ্রেশন চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি উৎসে করহার কমানো, সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপ, ভ্যাট রিফান্ডের সীমা তুলে দেওয়া এবং মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ভ্যাট সংগ্রহ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, এবারের বাজেটে নন-ট্যারিফ বাধা কমানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসার খরচ কমে এবং উদ্যোক্তারা স্বস্তি পান। তিনি বলেন, কর ফাঁকিদাতাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনা হবে, তবে নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কর্পোরেট করহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে, যা আরও কমানোর সুযোগ সীমিত। তবে কার্যকর করহার নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী অর্থবছর থেকে কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া এবং ভ্যাট রিফান্ড সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা চেম্বার ও এনবিআরের এ আলোচনায় কর কাঠামো সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের নানা দিক উঠে আসে, যা আগামী বাজেট নীতিমালায় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমআর/এমআই



