বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী সাকি
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সাজানোর কাজ চলছে। 

তিনি বলেন, আগামী চার, আট ও দশ বছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্র কেমন হবে—সে লক্ষ্য সামনে রেখে একটি কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমান পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি—দুই দিকই সমান গুরুত্ব পাবে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৫ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। অতীতে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত ছিল কি না এবং বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এ কারণেই বিদ্যমান পরিকল্পনা ও চলমান প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন হলেও, সেই ধারাবাহিকতার নামে অকার্যকর বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যাবে না। তাই প্রকল্পগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন এবং বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে। অতীতের পরিকল্পনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়। 

অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতি যত বেশি অংশগ্রহণমূলক হবে, তত বেশি এর সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। তাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই এটি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। 


বিজ্ঞাপন


এ জন্য সরকার বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

পরামর্শক কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং একটি চলমান কৌশলগত প্রক্রিয়ার সূচনা। আগামী দুই মাস এই কমিটি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে আসন্ন বাজেটের সঙ্গে সমন্বিত একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক উপস্থাপন করা যায়।

জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব জ্বালানি উৎস দ্রুত অনুসন্ধান ও ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন রিগের অভাব ও দুর্বল সক্ষমতার কারণে সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য গ্যাস সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বাপেক্সকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা হয়নি। এখন সরকার বাপেক্সকে সক্ষম করে দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোলার এনার্জিকে আর ব্যয়বহুল বা বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি এখন বাস্তব প্রয়োজন। তাই ধাপে ধাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর