রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শীর্ষ বাজারগুলোতেই কমেছে পোশাক রফতানি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে চীনকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ
ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত টানা কয়েক মাস ধরে চাপের মুখে রয়েছে। প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোর প্রায় সবকটিতেই রফতানি কমে যাওয়ায় খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রফতানি আয়ের হিসাবে শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে ৯টিতেই চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রফতানি কমেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ দেশভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান ও ডেনমার্ক—এই শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে একমাত্র স্পেনেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রফতানি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে বাকি ৯টি বাজারেই রফতানি আয় কমেছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়।


বিজ্ঞাপন


সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে জার্মানির বাজারে। দেশটিতে প্রায় ১৪ শতাংশ রফতানি কমে গেছে, যা অর্থমূল্যে কমেছে প্রায় ৫৩ কোটি ডলার। গত নয় মাসে জার্মানিতে রফতানি দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার। ডেনমার্কে রফতানি কমেছে প্রায় ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর ফ্রান্সে কমেছে ১২ শতাংশের বেশি।

অন্য বড় বাজারগুলোর চিত্রও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। একক বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যেখানে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ডলার। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, মোট আয় হয়েছে ৩৩০ কোটি ডলার।

নতুন বা অপ্রচলিত বাজারগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। এশিয়ার দেশ জাপান, যা নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড়, সেখানেও রফতানি কমেছে। গত নয় মাসে দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৭৯ কোটি ডলার, যা আগের একই সময়ে ছিল ৯৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একাধিক অভিন্ন কারণে বিশ্বজুড়ে রফতানি কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি, দেশের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে রফতানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা কেটে গেলে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতির আশা ছিল। এপ্রিল-মে মাস থেকে নতুন রফতানি আদেশ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব আগস্ট নাগাদ দৃশ্যমান হতে পারে—এমন প্রত্যাশা ছিল। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বাজার সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত—প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাজার। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিনের প্রধান বাজার হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশকে নতুন বা উদীয়মান বাজার হিসেবে দেখা হয়।

রফতানিকারকদের মতে, নতুন বাজারে সম্ভাবনা থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, চাহিদা হ্রাস এবং প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে সেখানে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর