শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

টিকে থাকতে না পেরে খামার গোটাচ্ছেন তৃণমূল উদ্যোক্তারা!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

Economic news
ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, করের চাপ এবং বাজার অস্থিরতার কারণে দেশের পোল্ট্রি শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

 

  • খাদের কিনারে ৫০ হাজার কোটি টাকার শিল্প
  • ৫ বছরে উৎপাদন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ
  • প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কর বেশি
  • সুবিধা না বাড়লে ধ্বংস হতে পারে পোল্ট্রি শিল্প
  • শিল্পটি করপোরেট কোম্পানির দখলে যাওয়ার শঙ্কা

ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, করের চাপ এবং বাজার অস্থিরতার কারণে দেশের পোল্ট্রি শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। টিকে থাকতে না পেরে খামার গুটিয়ে নিচ্ছেন তৃণমূল উদ্যোক্তারা। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা লোকসানে ৫০ হাজার কোটি টাকার এই শিল্প খাদের কিনারে পৌঁছে গেছে। গত পাঁচ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ বেড়েছে চলতি বছরে। সে অনুযায়ী বাড়েনি আয়ের সুযোগ। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতে কর সবচেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন খামারিরা। 

বাজেটে বিশেষ সুবিধা না বাড়ালে এই শিল্প ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পোল্ট্রি খাত ধীরে ধীরে করপোরেট কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, যার ফলে প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। 

Farm

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের অংক না মেলায় দেশের প্রান্তিক খামারিরা এখন চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন। ক্রমাগত লোকসানের কারণে হাজার হাজার খামারি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে পোল্ট্রি খাতের একটি বড় অংশ বেকার হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এ খাতের ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।


বিজ্ঞাপন


চলতি বাজেটে করপোরেট কর এক লাফে ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ফিড, ওষুধসহ পোল্ট্রি উপকরণের দাম দফায় দফায় বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খরচে। ফলে অনেক খামারি এখন আর লোকসান সামলাতে পারছেন না, যার কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

picture_20260120_230115681

বর্তমান অবস্থাকে সার্বিকভাবে চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশের উদীয়মান পোল্ট্রি শিল্প এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজারে প্রতিযোগিতা ও উৎপাদন ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তুলনায় পোল্ট্রি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা অনেক বেশি অনুকূল। পাকিস্তান, নেপাল, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে এই খাতে কর সুবিধা থাকায় উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। বাংলাদেশে করপোরেট কর ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে খাতটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ অবস্থায় আসন্ন বাজেটে পোল্ট্রি খাতের ওপর করের বোঝা কমিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়কর, আমদানি শুল্ক ও অগ্রিম আয়করে (এআইটি) ছাড় এবং বিশেষ বরাদ্দ না দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, সঠিক নীতিগত সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে পোল্ট্রি শিল্প বড় করপোরেট কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ডিম ও মুরগির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

659886407_1300870878593880_4413573592100146685_n

রাজশাহীর পুঠিয়ার খামারি রুবেল জানান, তিনি বর্তমানে নিজস্বভাবে ব্যবসা না করে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক খামার পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, আমি এখন কন্ট্রাক্ট ফার্মিং করি। খাবারসহ সবকিছু কোম্পানিই দেয়। এতে আমার আলাদা করে বেশি পুঁজি লাগে না। নিজে ব্যবসা করলে অনেক সময় সিন্ডিকেটের কারণে মুরগির দাম কমে যায়। তখন বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়। কিন্তু কোম্পানির সঙ্গে কাজ করলে সেই ঝুঁকিটা কম থাকে।

রুবেল আরও বলেন, আগে আমার দুটি খামার ছিল, তবে বর্তমানে একটি খামার রয়েছে। এখন এক খামারে প্রায় ১,৫০০ মুরগি উঠাই। আগে দুইটা ছিল, এখন কমিয়ে একটা করেছি। একটা খামার থেকে গড়ে ৩০ হাজার টাকার মতো আসে। কখনো একটু কম হয়, কখনো আবার একটু বেশি হয়—এই আরকি। বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তিভিত্তিক খামারব্যবস্থাই তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ এতে বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি খামারির ওপর পড়ে না।

রংপুরের খামারি মাহবুব বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পোল্ট্রি খাত চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে-এখন মনে হচ্ছে দেওয়ালও ধসে পড়বে। গত ছয় মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এ খাতে কার্যকর কোনো সরকারি সহায়তা নাই। সরকার আমাদের হিসাবই করে না। জেলা, উপজেলা বা বিভাগীয় অফিস থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো সহায়তা আমরা পাই না।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়ে মাহবুব বলেন, আমরা যে মুরগিগুলো ধরে রেখেছি, ভেবেছিলাম রমজানের পর দাম বাড়বে। তাহলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু রমজান গেল, ঈদও পার হয়ে গেছে-এখনো ডিমের দাম বাড়েনি। আমরা ডিমের দাম বাড়াতে চাই না, আমরা চাই খাদ্যের দাম কমানো হোক। যে দামে খাদ্য কিনছি, সেই দামে ডিম বিক্রি করেও খরচ উঠছে না।

hens-egg-production-White-Leghorn-layer-house

খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এক বছর আগেও পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় ছিল। কিন্তু এখন প্রতি কেজি খাদ্যের দাম প্রায় ৫৩ টাকা। প্রতিদিন এক টন ফিড লাগে, যার জন্য প্রায় ৫৩-৫৪ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ডিম বিক্রি করে সেই খরচই ওঠে না। এর সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক খরচ, বিদ্যুৎ বিল, ডিজেলসহ আরও নানা ব্যয়-সব মিলিয়ে টিকে থাকা এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে।

দুই যুগের বেশি সময় ধরে খামার পরিচালনা করে আসা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার খামারি আলমগীর হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, অতীতে এমন পরিস্থিতি তিনি কখনো দেখেননি।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই তিনিসহ হাজার হাজার খামারি লোকসান গুনছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ‘চোখের সামনে শত শত খামারিকে নিঃস্ব হতে দেখছি। খাদ্যের দাম কমানো না গেলে প্রান্তিক পর্যায়ের কোনো খামারিই টিকে থাকতে পারবে না।’ 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রিপন কুমার মন্ডল ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সবার আগে খাদ্যের দাম কমানো জরুরি। কারণ খামার পরিচালনার মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই খাদ্য কেনায় ব্যয় হয়।

hens-henhouse-heating-conditions-lighting-chickens-egg-1

তিনি বলেন, খামারিদের কম দামে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য উৎপাদনের খরচ কমাতে হবে, যা বর্তমানে আমদানিনির্ভর উপকরণের কারণে বেশি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পশুখাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে আয়কর ও শুল্ক কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে খাদ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কছাড়সহ নানা প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।’

ড. রিপন কুমার মন্ডল আরও বলেন, ‘দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পোল্ট্রি খাত, যা দেশের সহজলভ্য প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস, গভীর সংকটে পড়ে যেতে পারে। এতে করে শুধু খামারিরাই নয়, সাধারণ ভোক্তারাও বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়বেন।’

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের কোথাও খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোনো খাতে এত উচ্চ হারে কর আরোপ করা হয় না। বরং দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ কর অব্যাহতি দিয়ে উদ্যোক্তা ও খামারিদের সহায়তা করে থাকে। কিন্তু কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই উৎপাদনকারীদের ওপর পড়তে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে তা বাজার ও ভোক্তাদের ওপরও পড়বে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সুরক্ষা দিতে বর্তমান কর ও শুল্ক অন্তত অর্ধেকে নামিয়ে আনা জরুরি, নইলে প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে নানা চড়াই-উতরাই পার করে পোল্ট্রি শিল্প টিকে থাকলেও করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি এ খাতকে আরও বিপর্যস্ত করেছে। এর মধ্যে চলতি বছরে করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা তিনি অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এসব কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের ডিম ও মুরগি উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, ফলে মাসের পর মাস লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

634044679_894126483237289_6053680829514660579_n

মোশারফ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ‘এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, যার বড় একটি অংশ তরুণ উদ্যোক্তা। খামার বন্ধ হয়ে গেলে শুধু কর্মসংস্থানই হারাবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধস নামবে। এ অবস্থায় তিনি খামারিদের পণ্য বিক্রিতে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজি বন্ধ, বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষক কার্ডে খামারিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরে পোল্ট্রি খাতে সব ধরনের কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান।’ 

তিনি মনে করেন, এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারকে কর ও শুল্কে নমনীয় হতে হবে। টার্নওভার কর ০.২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং করপোরেট ট্যাক্স ১০ শতাংশে নির্ধারণ করলে বড় উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি এআইটি ১ শতাংশে নামানো, টাকা ফেরতের জটিলতা দূর করা এবং টিডিএস কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বিপিআইএর মহাসচিব ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. সাফির রহমান বলেন, আগামী বাজেটে পোল্ট্রি খাতে বিশেষ সুবিধা না দিলে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যমান উদ্যোক্তারাও বিকল্প খাতে চলে যেতে পারেন। তখন ডিম ও মুরগির মতো সহজলভ্য প্রাণিজ পণ্য উচ্চমূল্যে কিনতে হবে এবং তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোল্ট্রি শিল্পকে শুধু একটি ব্যবসা হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি দেশের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাদের মতে, আগামী বাজেটে করের বোঝা কমানো না হলে ডিম ও মুরগি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং তা কেবল উচ্চবিত্তের খাদ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য মোটেও কাম্য নয়।

image

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পোল্ট্রি ও পশুখাদ্য খাতে কর কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফিড মিলগুলো টার্নওভারের ভিত্তিতে মাত্র সাড়ে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ কর দেয়। থাইল্যান্ডে বিনিয়োগ বোর্ডের অধীনে পশুখাদ্য শিল্প পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত শতভাগ কর অব্যাহতি পায়। মালয়েশিয়ায় পশুখাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে সেলস ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন ফিড শিল্পকে ১০ বছর পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হয়। নেপাল ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান আমদানিতে অগ্রিম কর মওকুফ করেছে। ভারতে সাধারণ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর নেই এবং কৃষিযন্ত্রে টিসিএস প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে এখনো পশুখাদ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর বহাল রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত কমছে। ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৫.২ শতাংশ হলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে ২০২৩ সালে ৩.৮, ২০২৪ সালে ৩.৫ এবং ২০২৫ সালে প্রাক্কলিত ৩.২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে উৎপাদন খরচ ১০০ সূচক থেকে বেড়ে ১৯০-এ পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর