মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদে ক্রেতাদের নজর ‘স্বল্প মূল্যের’ হোপ মার্কেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদে ক্রেতাদের নজর ‘স্বল্প মূল্যের’ হোপ মার্কেটে

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে অস্থায়ী বাজার হোপ মার্কেট। তুলনামূলক কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দিন দিন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই মার্কেট যেন হয়ে উঠেছে স্বস্তির ঠিকানা।

মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে মিরপুর-১৩ নম্বরের দিকে যাওয়ার পথে হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আশপাশের কয়েকটি সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে এই বাজার। ছোট ছোট অস্থায়ী দোকান, ফুটপাতজুড়ে পসরা, আর বিক্রেতাদের ডাকাডাকি মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ।


বিজ্ঞাপন


ঈদ সামনে রেখে বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে নারী ও শিশুদের পোশাক। থ্রি-পিস, কুর্তি, গাউন, বোরকা, টপস থেকে শুরু করে জুতা, কসমেটিকস, কৃত্রিম গয়না ও ভ্যানিটি ব্যাগ-সবই মিলছে একই জায়গায়। পাশাপাশি পুরুষদের প্যান্ট-শার্ট, ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথসহ গৃহস্থালি নানা পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

রেডিমেইড পোশাকের চাহিদাও এবার বেশ ভালো। অনেকেই সময়ের অভাবে কাপড় কিনে বানানোর ঝামেলায় যেতে চান না। তাই সুলভ দামে তৈরি পোশাক কিনে নিচ্ছেন সরাসরি দোকান থেকেই।

d1ea13c0-457d-45fa-9723-bdc4554e1290_(1)


বিজ্ঞাপন


সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা থাকে এই এলাকায়। তবে বিকেলের পর ভিড় বাড়তে শুরু করে, আর ইফতারের পর তা রীতিমতো উপচে পড়ে। অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখছেন, দাম তুলনা করছেন, দরদাম করছেন, তারপর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের পোশাকও রয়েছে তাদের কাছে। ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের স্টাইল একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছেন, যা এই বাজারের আরেকটি বড় আকর্ষণ।

দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করা তৌফিক হোসেন নামের এক বিক্রেতা জানান, এই মার্কেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। স্কুলের আশপাশে কোচিং সেন্টার থাকায় অভিভাবকদের যাতায়াত ছিল বেশি। সেই সুযোগেই প্রথমে কয়েকজন দোকানি অস্থায়ীভাবে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ে, দোকানের সংখ্যা বাড়ে, আর একসময় এটি পরিচিত বাজারে পরিণত হয়।

এখন শুধু ফুটপাত নয়, আশপাশের ফ্ল্যাটবাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে হোপ প্লাজা ও মিয়াবাড়ি মার্কেটের মতো ছোট ছোট শপিং স্পেস। এসব মার্কেটে অপেক্ষাকৃত গোছানো পরিবেশে কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তুলেছেন দোকানে। কাতান, জর্জেট, অরগেন্ডি, সুতি ও লিলেন কাপড়ের তৈরি থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি। দামও রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যে, যাতে বেশিসংখ্যক ক্রেতা আকৃষ্ট হন।

4f8e2e09-96d1-423b-b36e-e88794a62fa7

আল আমিন নামের এক বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের দোকানে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কুর্তি, লং ফ্রক, গাউন, টপস ও বোরকা রয়েছে। নতুন কালেকশন আসায় ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, যদিও বিক্রি প্রত্যাশামতো সব দোকানে হচ্ছে না।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই মার্কেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কম দামে তুলনামূলক ভালো মানের পণ্য পাওয়া। অনেকেই বলছেন, বড় শপিং মলে একই ধরনের পণ্য কিনতে গেলে যে খরচ হয়, এখানে তার চেয়ে অনেক কমে পাওয়া যায়।

সাকিব আল আমিন নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, এই মার্কেটটি খুব বেশি পরিচিত না হলেও যারা চেনেন, তারা নিয়মিতই আসেন। পরিচিত দোকান হওয়ায় বেশি দরদাম করতে হয় না, আবার নতুন ও ভিন্ন ধরনের কালেকশনও পাওয়া যায়।

মানসুরা নামের এক গৃহিণী বলেন, বড় দোকানে পর্দা বা গৃহস্থালি পণ্যের দাম অনেক বেশি। এখানে তুলনামূলক কম দামে একই ধরনের পণ্য পাওয়া যায় বলে তিনি নিয়মিত এখান থেকে কেনাকাটা করেন।

68420885-0f6c-480c-85a4-70076fc98f36

ফুটপাতের দোকান থেকে কসমেটিকস ও গয়না কিনতে আসা আরেক ক্রেতা খাদিজা আক্তার তিথি জানান, তার কাছে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মিরপুর এলাকায় কোনো কাজ থাকলেই তিনি এই মার্কেটে ঢুঁ দেন, কারণ এখানে ভালো কালেকশন পাওয়া যায় কম দামে।

পুরুষ ক্রেতাদের মধ্যেও এই বাজারের জনপ্রিয়তা কম নয়। এক ক্রেতা জানান, ব্র্যান্ডের শোরুমে যে দামে প্যান্ট বিক্রি হয়, তার চেয়ে অনেক কমে কাছাকাছি মানের পণ্য তিনি এখান থেকে কিনতে পারেন। এজন্য তিনি দূর থেকে রিকশা ভাড়া করেও এখানে আসেন।

তবে সব বিক্রেতার অভিজ্ঞতা এক নয়। কেউ কেউ বলছেন, এবার বেচাকেনা প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেকেই বাজারে এসে দেখছেন, কিন্তু কিনছেন কম।

অন্যদিকে কিছু দোকানি বলছেন, মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে এবং তা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে চাঁদরাত ঘনিয়ে এলে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়, তখন অনেকেই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা সারেন।

b0e1eda4-39dc-4029-9474-3893a517da5d

ফয়সাল কবির নামের এক বিক্রেতা জানান, এখানকার ক্রেতারা মূলত নিয়মিত। যারা একবার আসেন, তারা সন্তুষ্ট হলে আবারও ফিরে আসেন। কারণ এখানে তুলনামূলক ভালো মানের পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, বড় ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করলে সবাইকে উপহার দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু এখানে কম দামে একাধিক ড্রেস কেনা যায়, ফলে পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু নেওয়া সম্ভব হয়।

এএইচ/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর