শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

২০০টির বেশি অর্গানিক পণ্য নিয়ে ভোক্তার কাছে ‘শতমূল এগ্রো’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

২০০টির বেশি অর্গানিক পণ্য নিয়ে ভোক্তার কাছে ‘শতমূল এগ্রো’
‘শতমূল এগ্রো’র বিভিন্ন পণ্য। ছবি: ঢাকা মেইল

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এখন প্রাকৃতিক ও নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। ভেজাল ও রাসায়নিকমুক্ত খাবারের সন্ধানে অনেকেই ঝুঁকছেন অর্গানিক পণ্যের দিকে। এমন চাহিদার প্রেক্ষাপটে দুই শতাধিক অর্গানিক পণ্য নিয়ে ভোক্তার আস্থার জায়গা তৈরি করেছে ‘শতমূল এগ্রো’।

গাওয়া ঘি, ঘানি ভাঙা সরিষার তেল, বগুড়ার দই, ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছি সেমাই, বিভিন্ন হার্ব পণ্য, খাঁটি খেজুরের গুড়, নিরাপদ ব্রয়লার, চিড়া, মুড়ি, মধু, খেজুরসহ দুই শতাধিক খাদ্যপণ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নিরাপদ খাবারের বার্তা। এসব পণ্যকে তারা অর্গানিক হিসেবে বাজারজাত করছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এর মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।


বিজ্ঞাপন


শতমূল এগ্রো’র মালিক রেজাউল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ছয় থেকে সাত বছর ধরে তিনি অর্গানিক খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করছেন। শুরুতে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু হলেও ধীরে ধীরে পণ্যের পরিধি ও ক্রেতা বেড়েছে। বর্তমানে দুই শতাধিক ধরনের পণ্য নিয়ে তারা বাজারে কাজ করছেন।

646673800_1446427376982862_2544929837851492615_n

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হচ্ছে। তারা জানতে চাইছে খাবার কোথা থেকে আসছে, কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা শুরু থেকেই নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের চেষ্টা করছি।’


বিজ্ঞাপন


শতমূল এগ্রোর পণ্যগুলোর একটি বড় অংশ তৈরি হয় উত্তরাঞ্চলের বগুড়া ও নাটোর জেলায়। এসব এলাকায় গ্রামীণ পরিবেশে প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করা হয়।

রেজাউল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তা প্রাকৃতিক উপায়ে নানা ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু অনেক সময় তারা সঠিক বাজার পান না। আমরা সেই পণ্যগুলো সংগ্রহ করে শহরের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও পাচ্ছেন তুলনামূলক নিরাপদ খাদ্য।

646736045_1501745561320822_7429665374503271444_n

ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় শতমূল এগ্রোর একটি আউটলেটে কাজ করেন আরিফ ফয়সাল। তিনি জানান, প্রতিদিন অনেক ক্রেতা এখানে আসেন অর্গানিক খাদ্যপণ্য কিনতে। বিশেষ করে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল, গাওয়া ঘি, খাঁটি খেজুরের গুড়, মধু ও বগুড়ার দইয়ের চাহিদা বেশি।

তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা এখন নিয়মিত এখানে আসেন। তারা একবার পণ্য ব্যবহার করার পর আবারও কিনতে আসেন। অনেকেই পরিবার ও পরিচিতদেরও এখানে থেকে পণ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন। তারা জানতে চান খাবার কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে তৈরি হচ্ছে। আমাদের এখানে পণ্যের উৎস ও মান সম্পর্কে ক্রেতাদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের একাধিক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব আউটলেটের মাধ্যমে ক্রেতারা সরাসরি এসে পণ্য কিনতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন নতুন বিক্রয়কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

646325526_1998242864424362_7710637881712484387_n

আজ (১৩ মার্চ) শুক্রবার ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় ‘শতমূল এগ্রো’র একটি নতুন আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। আউটলেটটির উদ্বোধন করেন-প্রতিষ্ঠানটির মালিক রেজাউল ইসলাম। নতুন এই বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকাবাসী সহজেই অর্গানিক খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রেজাউল ইসলাম জানান, আমরা চাই মানুষ সহজে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাবার পেতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। বনশ্রী এলাকার এই নতুন আউটলেট সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্রেতাদের আস্থা অর্জনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন তারা। অনেকেই নিয়মিত এসব পণ্য কিনছেন এবং পরিচিতদের মধ্যেও জানাচ্ছেন।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন অনেক পণ্যের মান নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ওঠে। তাই অনেকেই চেষ্টা করেন নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে খাদ্যপণ্য কিনতে। ‘শতমূল এগ্রো’র পণ্য ব্যবহার করে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা।

645739147_1439127487687640_1735674133558118353_n

রামপুরা বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি নিয়মিত ঘানি ভাঙা সরিষার তেল ও খাঁটি খেজুরের গুড় এখান থেকে কিনে থাকেন। এসব পণ্যের স্বাদ অনেকটা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মতো। তাই পরিবারের জন্য তিনি এখান থেকেই পণ্য সংগ্রহ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

একই এলাকার আরেক ক্রেতা সাইদুর রহমান জানান, তিনি মধু, চিড়া ও মুড়ির মতো পণ্য এখান থেকে নিয়মিত কিনে থাকেন। বাজারে অনেক সময় একই ধরনের পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ থাকে। কিন্তু এখানে পণ্যের মান তুলনামূলক তার কাছে ভালো বলে মনে হয়েছে।

এএইচ/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর