সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বিনিয়োগকারীদের জন্য এবার চালু হলো ‘বাংলাবিজ ২.০’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

Banglabiz 2
বিডা কার্যালয়ে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের দ্বিতীয় সংস্করণ (বাংলাবিজ-ফেজ ২) উদ্বোধনে অতিথিবৃন্দ। ছবি- সংগৃহীত

দেশের বিনিয়োগ সেবাকে একীভূত, দ্রুত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘বাংলাবিজ ২.০’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে এটি চালু করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের দ্বিতীয় সংস্করণ (বাংলাবিজ-ফেজ ২) উদ্বোধন করা হয়। এতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


এরআগে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাবিজের প্রথম সংস্করণ চালু করা হয়, যেখানে বিডা, বেজা, বেপজা, বিএইচটিপিএ ও বিসিকের ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালগুলো একীভূত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছিল।

বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধার ফলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে। ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন ও ট্রেড লাইসেন্সসহ পাঁচটি প্রধান অনুমোদন এখন একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এতে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অনুমোদন সরাসরি বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস (কেওয়াইএ)’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ডকুমেন্ট আগেই জানতে পারবেন। প্রয়োজনে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সহায়তা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ আইডি (বিবিআইডি)’ চালুর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যবসা একটি ইউনিক পরিচিতি নম্বর পাবে, যার মাধ্যমে আবেদন ও অনুমোদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে।

ভবিষ্যতে এটি ইউনিক বিজনেস আইডি (ইউবিআইডি) চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। সিঙ্গেল সাইন-অন (এসএসও) সুবিধায় একটি লগইনেই বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।’

বিশেষ অতিথি জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সেবার দাবির কার্যকর সমাধান হচ্ছে বাংলাবিজ। এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।’

তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যেই বাংলাবিজকে মাল্টি-এজেন্সি বিনিয়োগ সেবা পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।’

তিনি জানান, শিগগিরই বাংলাবিজকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এমআর/এএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর