শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিনের লোকসানের অভিযোগ তুলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হঠাৎ এ ঘোষণায় এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করে তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনছেন। আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যে সে অনুযায়ী কোনো সমন্বয় করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সাময়িকভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


ডিলাররা জানায়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আবার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে মূলধনও উঠে আসে না। দুই দিকের এই চাপের কারণে তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভোক্তা পর্যায়ে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মফস্বলে পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় বিপুলসংখ্যক পরিবার এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে থাকে। অনেক এলাকায় এলপিজিই একমাত্র রান্নার জ্বালানি। বিক্রি বন্ধ থাকলে এসব পরিবারকে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, বেকারি ও ক্ষুদ্র খাবার ব্যবসার মালিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এলপিজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে অনেক ছোট ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়বে। এতে কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাবারের খরচও বেড়ে যেতে পারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এক দিনের জন্যও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ভোক্তারা জানান, এলপিজি গ্যাসের বিকল্প ব্যবস্থা সহজলভ্য নয়। গ্রামাঞ্চলে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ করা আগের মতো সহজ নয়। শহরে সে সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা খাতুন বলেন, তাদের পরিবার সম্পূর্ণভাবে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে যদি গ্যাস পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে রান্না করা বড় সমস্যায় পরিণত হবে। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বাজারে সিলিন্ডার না পেলে দৈনন্দিন জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

কাজীপাড়া এলাকার ক্ষুদ্র খাবার ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, তার ছোট খাবারের দোকানটি এলপিজি গ্যাস ছাড়া চালানো সম্ভব নয়। এক দিন গ্যাস বন্ধ থাকলেও দোকান খুলতে পারব না। এতে প্রতিদিনের আয় বন্ধ হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে অনেক ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে আজ থেকে সারা দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য একটি নোটিশ জারি করে ব্যবসায়ী সমিতি। নোটিশে বলা হয়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।

তারা জানায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। পরে সন্ধ্যায় বিক্রি বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছ থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আমদানি সংকট নিরসনের দিকে নজর না দিয়ে দাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।


এএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর