শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ, বাজারের ব্যাগ ফাঁকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ, বাজারের ব্যাগ ফাঁকা

প্রায় এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি কেজি ১২০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও দাম ছিল ৬০-৭০ টাকা। দাম সহনীয় রাখতে ভারতসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানির ঘোষণা দেয় সরকার। তবে, আবেদনের সংখ্যার তুলনায় খুব একটা হয়নি ঋণপত্র (এলসি) খোলা। এদিকে পেঁয়াজ কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হওয়ায় বাজার থেকে অন্য কিছু কম কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রেতারা। তবে মাছ ও মাংসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর ১১ ও ১২ এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে সাশ্রয়ী হিসেবে রয়েছে ব্রয়লার মুরগি ও চাষের তেলাপিয়া— দুটোরই দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। তবে অন্যান্য সব ধরনের মাছ ও মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। সোনালি মুরগি কেজিতে ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


মাছের বাজারে চাষের পাঙাশ ২২০ টাকা হলেও নদীর পাঙাশ ৩৫০ টাকা। চাষের রুই ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং নদীর বড় রুই ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতলের দাম ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ থেকে ১২০০ টাকা, ইলিশ ১৯০০ থেকে ২২০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, রূপচাঁদা ১০৫০ টাকা, কালো চান্দা ৭০০ টাকা, চিতল ৫৫০ টাকা, বড় শোল ৭৫০ টাকা, মাগুর ৭০০ টাকা, বাটা ৫৫০ টাকা এবং দেশি টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য তেমন স্বস্তির খবর নেই। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা শীতের আগের দামের তুলনায় কিছুটা বেশি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজি ছাড়া প্রায় সব পণ্যের দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই এবং মাংস কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

মিরপুর-১১ বাজারে দেখা হয় আনিসুল রহমান নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বছরে আমাদের বেতন বাড়ে একবার। আর বাজারে প্রতিনিয়ত জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়ে। এভাবে একটা দেশের বাজার চলতে পারে না। সরকারের আরও শক্তভাবে এসব দেখা উচিত।’


বিজ্ঞাপন


রিংকু ইসলাম নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘শীতের আমেজ শুরুর আগে পেঁয়াজ কিনতাম ৬০-৭০ টাকা কেজি। কিছুদিনের মধ্যে সেটার দাম এখন দ্বিগুণ। অন্যান্য সব সবজি আসছে; কিন্তু পেঁয়াজের দাম বিবেচনায় শীতকালীন সবজি ২/১ টা কম কিনতে হচ্ছে।’

মিরপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জোহরা বেগম বলেন, ‘বাজারে আসলেই ভয় লাগে। ভেবেই নিয়ে থাকি কোন জিনিসের না দাম বেড়ে যাচ্ছে! ভাবি বাড়লেও যাতে খুব কম টাকা বৃদ্ধি হয়। সরকারের কোনো লোকজন বাজার দেখে কিনা কে জানে? এসবের ওপর নজরদারি থাকা উচিত।

এএসএল/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর