বৃষ্টিতে বেহাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট 

জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪১ পিএম
বৃষ্টিতে বেহাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট 
ছবি : ঢাকা মেইল

বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের ধীরগতি, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বৃষ্টিপাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট বড় গর্ত। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বৃষ্টিতে এসব গর্ত এখন পানিতে পরিপূর্ণ।

পানি থাকায় গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে সড়কের বিভিন্ন অংশে উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। এতে যান চলাচলে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। ভোগান্তিতে পড়েন এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে গাড়ির স্বাভাবিক গতি। 

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট নিরসনে কাজ করছে পুলিশ। 

রোববার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে গাজীপুরের তারগাছ থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো টঙ্গী এলাকা। 

>> আরও পড়ুন : মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া রুটে বাস বন্ধ

JAM

পুলিশ ও যাত্রীরা জানায়, বিমানবন্দর এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ঢাকামুখী যানবাহনের ধীরগতির কারণে এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ১০-১৫ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে। যানজট নিরসনে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। 

রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পনগরী গাজীপুরবাসীর অভিযোগ, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে তারা দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মহাসড়কের টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিআরটি এর ফ্লাইওভারের পিলার, স্টেশন, সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণকাজ। 

টানা বৃষ্টিতে সড়কের ওই অংশে অসংখ্য গর্ত পানিতে ডুবে থাকায় উভয় লেনে যান চলাচল ব্যহত হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় যানবহনের সারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হয়। যানজটে আটকা পড়ে অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। 

মহাসড়কের উভয়পাশের ফুটপাত না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাধ্য হয়ে পথচারীরা সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করেন। তবে কাঁদাপানিতে পায়ে হাঁটার পথেও ভোগান্তিতে পড়েন তারা। 

jam

ভুক্তভোগীদের মধ্যে পোশাক কারখানায় কর্মরত আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে সকাল ৮টায় রওনা হয়ে দুপুর ১২টায় আব্দুল্লাহপুর আসতে পেরেছি। অথচ এই পথটুকু যেতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিছু পথ পায়ে হেঁটে আর কিছু পথ গাড়িতে এসেছি। অফিস সময় তো পেরিয়ে গেছে। 

ধীরগতির বিআরটি প্রকল্পের সমালোচনা করে পথচারী ইমতিয়াজ বলেন, বিআরটি প্রকল্প যেটা গাজীপুর বাসির আর্শিবাদ হওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন তাদের গলার কাঁটা। উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদের কারণে সড়কের এই বেহাল অবস্থা। সড়কের উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল কর্তৃপক্ষের।

টঙ্গী ব্রিজের উত্তর পাশে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সকাল থেকেই ধীরগতিতে যানবাহন প্রবেশ করে রাজধানীতে। অনেক স্থানে গর্তে উল্টে পড়ে বেশ কয়েকটি পণ্য বোঝাই রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। এছাড়া বোর্ড বাজার, মালেকের বাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ময়লা, নোংরা পানি দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। 

বলাকা পরিবহন চালক আরশেদ মিয়া বলেন, আগে ১২ কিলোমিটার মহাসড়কেই খানাখন্দ ও গর্ত ছিল। কিন্তু এখন টঙ্গী অংশ নেন সড়কের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। এই ভোগান্তির অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারেন না। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, টঙ্গী ব্রিজ থেকে মিলগেট পর্যন্ত অনেকগুলো গর্ত হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিমানবন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আলমগীর হোসেন আরও জানান, কোনো গাড়ি যেন ফেঁসে না যায় এজন্য তাদের রেকার গাড়ি সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তবে গাড়ির গতি কম থাকায়  যানজটের সারি দীর্ঘ রয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উন্নতি ঘটছে। যানজট এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে পুলিশ কাজ করছে।

প্রতিনিধি/ এইচই