নোয়াখালীর কবিরহাটে ইসলামী ব্যাংক দাখিল মাদরাসার অভিভাবক সমাবেশ পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। সমাবেশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে অতিথি ও অভিভাবকদের হেনস্তা, শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের পিটিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ সময় মাদ্রাসার সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেইলের কাছে এমন অভিযোগ জানায়।
এর আগে, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আবদুল্লাহ মিয়ার হাট পশ্চিম রাজুরগাঁও সেন্টার মার্কেট এলাকায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে কবিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ শুরু হয়। এতে ইসলামী ব্যাংকের নোয়াখালী জোন, মাইজদী কোর্ট শাখা ও সোনাপুর শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর মোকাম্মেল মামুন ও সাইফুল ইসলাম মিশুর নেতৃত্বে একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
তারা পুরুষ অভিভাবকদের হুমকি ও মারধর করে বের করে দেয় এবং নারী অভিভাবকদেরও হেনস্তা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা ছালেহ উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ককে মারধর করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ সময় সমাবেশে আসা ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও হেনস্তা করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সমাবেশ বন্ধ করে দেয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজনকে অপমান, হুমকি এবং তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা ছালেহ উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাদরাসার একটি পুকুর ও জায়গা রয়েছে। সেগুলো দখলের চেষ্টা চলছে। মূলত মাদরাসার পরিচালনা কমিটিতে আসার উদ্দেশ্যেও তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাদের বাধার কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সমাবেশ বন্ধ হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ছয় মাস ধরে পুকুরটি তাদের দখলে রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দুই থেকে তিনবার থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ এসে তদন্তও করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পুকুরটি উদ্ধার হয়নি।’
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও পুকুর দখল ও মাছ চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার সময় মাদ্রাসার সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদরাসারস্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এমআর/এএম




