দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ অনুসন্ধান কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতায় কূপটির দুটি জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটিতে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। এটি দেশের ৩১তম গ্যাসকূপ এবং নোয়াখালী জেলার ষষ্ঠ গ্যাসকূপ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন গ্যাসের সন্ধানে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাসসংকট নিরসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাপেক্স পরিচালিত এই কূপে সরকারি ও বাপেক্সের যৌথ অর্থায়নে গত ৮ জুলাই খননকাজ শুরু হয়। ‘বিজয়-১০’ রিগের মাধ্যমে খননকাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩০০ মিটার। প্রায় চার মাসের খননকাজ শেষে ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতায় কূপটির দুটি জোনে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
প্রাথমিকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর কূপটিতে আগামী ১৫ দিন ‘ড্রিল স্টেম টেস্ট’ (ডিএসটি) চালানোর কথা রয়েছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে কূপের গ্যাসের প্রবাহ, উত্তোলনক্ষমতা ও গ্যাসের গুণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কূপটির উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে।
বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দলপুর সাউথ-১ কূপে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট। হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০ বছর ধরে কূপটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হতে পারে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ অক্টোবর নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই কূপেও ডিএসটি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে কূপটির গ্যাসের মজুদ ও উত্তোলনক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস




