শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাসেই বাঁধে ধস, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রামের মানুষ

অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাসেই বাঁধে ধস, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রামের মানুষ
বরগুনার তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাস না পেরোতেই পায়রা নদীর তীরবর্তী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ছবি- ঢাকা মেইল

বরগুনার তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাস না পেরোতেই পায়রা নদীর তীরবর্তী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ রোববার রাতের জোয়ারে জিওব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ নতুন করে নদীভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় বাঁধ সংস্কার ও জিওব্যাগ স্থাপনের জন্য চলতি বছর পাঁচটি প্যাকেজে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজগুলো পায় বরগুনার মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশন, মেসার্স মনি ট্রেডার্স এবং বরিশালের মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ। জুলাইয়ের মাঝামাঝি শুরু হওয়া সংস্কারকাজ শেষ হয় ২১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ে।

বাঁধের এ অবস্থায় তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজানপাড়া, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ মেরামত করা না হলে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

বরগুনার তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাস না পেরোতেই পায়রা নদীর তীরবর্তী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ছবি- ঢাকা মেইল
বরগুনার তালতলীতে সংস্কারের দেড় মাস না পেরোতেই পায়রা নদীর তীরবর্তী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ছবি- ঢাকা মেইল

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সংস্কারকাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের দাবি, বাঁধসংলগ্ন নদীর তীর থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি তুলে কাজ করায় বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়েছে।

পাশাপাশি জিওব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না ভরে নামমাত্র বালু ও মাটি দিয়ে বাঁশের খুঁটি এবং টিনের বেড়ার সহায়তায় সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির ঘাটতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী বলেন, বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি ও ধানখেত পানিতে তলিয়ে যাবে। সারা বছরের খাবারের জোগান আসে এই ধান থেকে। ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার, হাসান মিয়া ও নুর-আলম মাতুব্বরের অভিযোগ, কাজ চলাকালে অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, এখন জিওব্যাগ নদীতে ধসে পড়ছে এবং বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বহু পরিবারকে দুর্ভোগে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন দাবি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই। যে স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি নদীর মোহনা। এ ধরনের জটিল স্থানে বারবার ভাঙন হয়। স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া ভাঙন ঠেকানো কঠিন।’

অন্যদিকে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল দাবি, ‘বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

নদীর তীর থেকে মাটি তুলে সংস্কারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘এ এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে টেকসই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত তা অনুমোদন পাবে।’

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর