বঙ্গোপসাগরে ট্রলার নিয়ে নেমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না পটুয়াখালীর উপকূলীয় জেলেরা। ইলিশের প্রজনন রক্ষায় টানা তিন সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু জালে প্রত্যাশিত মাছ না ওঠায় জেলে পরিবার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছোট-বড় ট্রলার নিয়ে ইলিশ শিকারে যান স্থানীয় জেলেরা। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তীরে ফিরে আসা ট্রলারগুলোতে ইলিশের পরিমাণ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম।
সরেজমিনে উপকূলে ঘুরে জানা যায়, সাগরের তীরবর্তী এলাকায় ইলিশের উপস্থিতি বলতে গেলে একেবারেই শূন্য। তবে প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার শেষ সপ্তাহে চুরি করে গভীর সাগরে যাওয়া গুটিকয়েক ট্রলার কিছুটা ভালো পরিমাণ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ নিয়ে কূলে ফিরেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ও আলীপুর ঘাটে ইলিশ বিক্রিকে কেন্দ্র করে হাঁকডাকে ব্যস্ততা দেখা গেলেও বাজারে ইলিশের দাম ছিল অত্যন্ত চড়া। বর্তমানে ডাক (নিলাম) প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজর ৫০০ টাকায়।
এ ছাড়া ৭০০–৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০–৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং জাটকা (ছোট ইলিশ) ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয় আড়তদারদের আশা, গভীর সাগরে থাকা সব ট্রলার কূলে ফিরলে ইলিশের জোগান বাড়বে এবং দামও কিছুটা কমবে।
উপকূলবর্তী এলাকায় মাছের আকাল নিয়ে কুয়াকাটার স্থানীয় জেলে আব্দুর রহিম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে এই সৈকতের কাছেই খুঁটা জাল ফেললে বড় বড় ইলিশ মিলত। এখন আর উপকূলের কাছাকাছি কোনো ইলিশ পাওয়া যায় না।’
আলীপুর ঘাটের ট্রলার মালিক মো. গফুর মিয়া বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে সাগরে আশানুরূপ মাছ মিলছে না। তার ওপর ঘন ঘন বৈরী আবহাওয়া তো আছেই। দীর্ঘদিন পর সাগরে ট্রলার গেছে, এখন মাছ পাওয়া না-পাওয়া আল্লাহর ভরসা।’
অবৈধভাবে মৎস্য শিকার ও ট্রলারের দাপটকে দায়ী করে মহিপুরের ‘গাজী ফিশ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মজনু গাজী বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটলেও অবৈধ ট্রলিং বোটগুলো মাছ ধরার চেয়ে নষ্ট করে বেশি। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।’

সার্বিক বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে সাগরে মাছ ধরার ট্রলারের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপকূলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে মাছের জোগান আগের মতো পাওয়া যায় না। তবে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় ইলিশ ধরা পড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারাদেশের নদী ও সাগরে সব ধরনের মৎস্য আহরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার।
প্রতিনিধি/এসআই




