গত চার মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা অনশন শুরু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে তারা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন। বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমানের আশ্বাসেও অনশন ভাঙেননি কর্মীরা। তাদের দাবি, বেতন পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
আন্দোলনকারী হামিদুর রহমান বলেন, ‘গত চার মাস ধরে আমরা বেতন থেকে বঞ্চিত। একাধিকবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ধরনা দিয়েও আশ্বাস ছাড়া কিছু পাইনি। আমরা আশ্বাস নয়, বেতন চাই। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাব না। আমাদের ৩৬২ জনের পরিবার গত চার মাস ধরে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’

আন্দোলনকারীরা জানান, অর্থাভাবে ইতোমধ্যে দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন অসুস্থ কর্মী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তাদের কিছু হলে মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
বন্ধ স্বাস্থ্যসেবা, ভোগান্তিতে রোগীরা
চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত ৩৬টি কেন্দ্রে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। তবে কর্মীদের আন্দোলনের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। জানা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে চসিকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে পরিবর্তন
চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি অচল এবং ৩৫টি সচল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুন পর্যন্ত এসব কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে জুলাই থেকে চসিকসহ সারা দেশের ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এসব কেন্দ্র তদারকির দায়িত্ব পড়ে সিভিল সার্জনের ওপর।
প্রতিনিধি/এসএস




