মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গাজীপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থী অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আসামির যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

গাজীপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থী অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আসামির যাবজ্জীবন

গাজীপুরে কওমি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. ফারুক মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো. হাবিবুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ফারুক পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মধ্যপাড়া শুকুরের চালায় নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সে কালিয়াকৈর উপজেলার বান্নারা রাহে জান্নাত মাওয়া কওমি মাদরাসা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক ও তার সহযোগীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আছমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন পুলিশ ফারুক ও অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ফারুক ২০১৮ সালের ২০ জুন জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

তবে হাবিবুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবু তাহের নয়ন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। বর্তমান বিচারক মামলা জট কমানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট’।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক ফারজানা ফেরদৌস গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন।

এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ছিলেন। তিনি যোগদানের সময় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার।

যোগদানের পর প্রায় এক মাসের ব্যবধানে তিনি ১২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ও বহুল আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বাদী ও বিবাদী পক্ষ আপসে আগ্রহী হলে আইনসম্মতভাবে সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর