রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অন্যজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।
পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চক করিম (তেলিপাড়া) এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিশু চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার গুজিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আমিনুল দফাদার নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা করেন। ৩০ নম্বর মামলাটিতে সৌরভ চন্দ্র মোহন্তকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার পর রাতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দীনেশ চন্দ্র মহন্ত জানান, সন্ধ্যায় একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক বলেন, পৃথক দুটি মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




