কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর তার সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনায় নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরে থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা পৃথক দুটি মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অভিযুক্ত যুবকের মা, জেঠা, একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স ও নবজাতককে কিনে নেওয়া ব্যক্তি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নবজাতককে উদ্ধারের পর রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত যুবক আবির হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, আবির হোসেনের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির, চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালের নার্স স্বপ্না বেগম এবং নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেওয়ার অভিযোগে কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রিপন মিয়া। আবির হোসেন ওই ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি আবিরের বাড়ির পাশেই। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তরুণীর মা ও নানি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানকালে আবির রাতে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। বিয়ের প্রলোভনে তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে একই আশ্বাসে একাধিকবার তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানালে তারা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে নানা টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইম হাসপাতালে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়াল করতে আবির, তার পরিবারের সদস্য, হাসপাতালের কর্মী ও তাদের পরিচিত ব্যক্তিরা নবজাতককে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রিপন মিয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান শুরু করে। রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার এবং নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
পৃথক দুটি মামলা
ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে আবির হোসেন, তার মা জোবেদা আক্তার সানজিদা, জেঠা নজরুল ইসলাম মনির এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সালিসদার হাজী মোস্তফা মোল্লাকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং নবজাতককে পাচারের উদ্দেশ্যে সরিয়ে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, নবজাতক বিক্রির ঘটনায় মানবপাচার আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে আবির হোসেনকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আবির হোসেনসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নবজাতক উদ্ধার ও এ ঘটনায় গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিনিধি/এআরএম




