মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, সন্ধান নেই শিক্ষিকার

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, সন্ধান নেই শিক্ষিকার
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) এখনো সন্ধান মেলেনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ১১ জন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের ১০ সদস্য রয়েছেন।

একটি পরিবারের চার সদস্য হলেন— শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন— মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে স্বজনদের নমুনার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়। এতে ১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে তিনি কক্সবাজারে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। মুক্তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল। নাসরিনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর