কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।
মামলায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। রোববার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের মাধ্যমেই আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি জানা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। তবে টুপটুপ রিসোর্টে এসবের কিছুই ছিল না। রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না বলে জানান তিনি।
তৌফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া আরও বলেন, মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল।
অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কোন মরদেহ কার, তা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের মধ্যে দুই নারী, এক শিশু ও এক পুরুষ রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস




