সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেও শেষজীবনে একা, মিলল মায়ের পচনধরা মরদেহ

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেও শেষজীবনে একা, মিলল মায়ের পচনধরা মরদেহ

বড় ছেলে ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা ভবনের মালিক, রয়েছে বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা। ছোট ছেলেও ঢাকায় কর্মরত। দুই মেয়েকেও ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে জীবনের প্রায় ১০ বছর কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। স্বামীর মৃত্যুর পর একাই চার সন্তানকে বড় করে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তাহমিনা বেগম (৬৫)।

অথচ জীবনের শেষ সময়ে সেই মা-ই ছিলেন একা। বরিশালের বাবুগঞ্জের নতুন হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় একাকী বসবাস করতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই ঘর থেকেই উদ্ধার হলো তার পচনধরা মরদেহ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, এক থেকে দুই দিন আগে তাহমিনা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীকে হারান তিনি। তখন চার সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় তার সংগ্রাম।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে যান তাহমিনা। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করেন। উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।

তার বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় থাকেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তাকে ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন। প্রায় তিন মাস আগে বড় ভাই রমিজ উদ্দিনের মাধ্যমে নতুন হাট এলাকার ওই বাসায় ওঠেন তাহমিনা। এরপর থেকে একাই থাকতেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

IMG-20261026-WA0002

বাসার মালিক আব্দুর বারেক বলেন, তাহমিনা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকেল থেকে বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম পাশের কোথাও ইঁদুর মারা গেছে। পরে রোববার সকালে বুঝতে পারি, দুর্গন্ধটি তাহমিনার ঘর থেকে আসছে।

তিনি জানান, গত তিন মাসে তাহমিনার ছেলে-মেয়েদের কাউকে একবারও দেখতে পাননি। পরে তাহমিনার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী শাহানা বেগম বলেন, তাহমিনা কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন বলে শুনেছি। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও ছিল। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতেন না।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহমিনার স্বজন ও ছেলে-মেয়েরা পুলিশকে মরদেহ ময়নাতদন্তে নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহেও বাধা দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর