প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের চিঠি অনুযায়ী, আবু বকর সিদ্দিক কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া মন্তব্যকে গুরুতর ও আপত্তিকর বলে বিবেচনা করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কটূক্তিমূলক মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছি। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস না পায়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
আবু বকর সিদ্দিক সম্পর্কে কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হওয়ায় শিক্ষকদের সঙ্গে তার খুব বেশি যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা ছিল না। কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও এসব আয়োজনে আবু বকরকে খুব একটা দেখা যায়নি। সর্বশেষ তার নেওয়া একটি ব্যবহারিক আইসিটি পরীক্ষায় আবু বকর অংশ নিয়েছিলেন। তখন তাকে অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই মনে হয়েছে।
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে আবু বকরের আচরণে আগে এমন কিছু দেখা যায়নি, যা থেকে এ ধরনের মন্তব্য করার বিষয়ে ধারণা করা যেত।
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আবু বকর নিয়মিত ক্লাসে আসতেন এবং ইনকোর্স পরীক্ষায়ও অংশ নিতেন। তবে শিক্ষকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল সীমিত। স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের বাইরের তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও শিক্ষকদের তেমন ধারণা ছিল না।
প্রতিনিধি/এসএস




