বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে স্নাইপার বিষয়ক মন্তব্য করা সেই যুবকের বাবাও আটক

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে স্নাইপার বিষয়ক মন্তব্য করা সেই যুবকের বাবাও আটক
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করে গ্রেফতার হওয়া সেই যুবকের বাবা আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার যুবকের নাম আবু বকর সিদ্দিক (২২)। তিনি নগরীর চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। তার বাবা পেশায় কৃষক। তার চার ছেলে-মেয়ে। একমাত্র ছেলে আবু বকর সিদ্দিকই সবার বড়। তিনি রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্যানে সবজি পরিবহনের কাজ করেন আবু বকর সিদ্দিক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তিনি এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। আবু বকর বাইকারদের দলের সঙ্গে যুক্ত। বাইক নিয়ে একসঙ্গে দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ান।

আবু বকরের মা আসমাউল হুসনা দাবি করেন, তার ছেলে নিরীহ, পরিশ্রমী এবং মেধাবী। তাকে এই ঘটনায় কোনোভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে মাদরাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই ছবি ফেসবুকে দেখে আবু বকর সিদ্দিক মন্তব্য করেন— ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ এরপর তাকে শনাক্ত ও অবস্থান নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসআরবি-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক বলেন, অভিযানে তার বাবা আয়নাল হককেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিএমপিতে সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত পরে ব্রিফিং করে জানানো হবে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়েও জব্দ করার মতো কোনো আলামত পায়নি পুলিশ। শুধু একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ আবু বকর সিদ্দিকের ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। তবে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, আবু বকর সিদ্দিক ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না। তার ল্যাপটপ নেই।

রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জানান, আবু বকর সিদ্দিক কলেজের নিয়মিত ছাত্র। তিনি প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে এখনো ফলাফল হয়নি। কলেজে তিনি আবু বকর সিদ্দিকের খারাপ কিছু দেখেননি। তিনি জানান, ফেসবুকে তার মন্তব্যের বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা তাকে জানিয়েছেন যে, আবু বকর সিদ্দিকের বাবা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি জামায়াতের সঙ্গে মিশছেন। আবু বকর পারিবারিক সূত্রে ছাত্রলীগ করতেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে কলেজে কিছু দেখেননি।

রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদ হাসান লিমন বলেন, আমি প্রশাসনের লোকজনের কাছে শুনলাম যে, আবু বকর আগে ছাত্রলীগ করত। এখন নাকি ছাত্রশিবির করছে। কিন্তু কলেজে আমি কোনো কিছু দেখিনি। তাকে আমরা সেভাবে চিনতামও না।

জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, এখন কিছু হলেই শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু আবু বকর সিদ্দিক আমাদের জনবল না।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আবু বকর আগে কখনো গ্রেফতার হয়েছিলেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার নামে কোনো মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি।

গত মঙ্গলবার রাজশাহী এসে বিমানবন্দর থেকে মাদরাসা ময়দান, সেখান থেকে ধর্মসভা হয়ে আবার বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময় রুয়েটের বাস ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানায়। প্রধানমন্ত্রীও এতে সাড়া দেন।

পরে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ওই বাসে বসে থাকার একটি ছবি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর