গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতের টহল চলাকালে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা। রফিকুল ইসলাম তুমলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুমলিয়া এলাকায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। এ সময় একটি অজ্ঞাতনামা কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দেয়।

এতে এসআই মিজানুর রহমান, পুলিশের পিএসআই জাবেদ ওমর, গাড়িচালক কনস্টেবল ফজলে রাব্বি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। জাবেদ ওমর ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল চলছিল। এ সময় তাদের গাড়ি চাপা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কনস্টেবল রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চাপা দেওয়া কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




