শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পঞ্চগড়ে রাস্তার কাজ তদারকির সময় ব্যাগে দেড় লাখ টাকা, প্রকৌশলী আটক

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

পঞ্চগড়ে রাস্তার কাজ তদারকির সময় ব্যাগে দেড় লাখ টাকা, প্রকৌশলী আটক

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় রাস্তার নির্মাণকাজ তদারকির সময় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে আটক করেছে পুলিশ। রাস্তার কাজের মান নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ থাকায় তার সঙ্গে এত নগদ টাকা থাকার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় স্থানীয়দের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক প্রকৌশলীর নাম নূর ই আকরাম। তিনি বোদা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও কাজের মান নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। ওই কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন নূর ই আকরাম।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাস্তার কাজের বরাদ্দ ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় প্রকৌশলী ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে তাদের অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তার পথরোধ করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশির চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলের সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, বিক্রির অভিযোগ

একপর্যায়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৌশলীর ব্যাগ তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগ থেকে এক লাখ টাকা এবং তার পকেট থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি প্রকৌশলীর সঙ্গে এত নগদ টাকা থাকার বিষয়টি সন্দেহজনক। তবে উদ্ধার হওয়া টাকা ঘুষ বা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী নূর ই আকরাম বলেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তার নিজের। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি টাকা সঙ্গে রেখেছিলেন। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেনের সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে এত নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস ও উদ্দেশ্য এবং সড়কের নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর