বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

৫২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গোয়ালঘরে আশ্রয় বৃদ্ধা মালেকার

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

৫২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গোয়ালঘরে আশ্রয় বৃদ্ধা মালেকার
মালেকা বেগম।

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বামীর বাড়ির গোয়ালঘরে আশ্রয় নিতে হয়েছে মালেকা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে। স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলে নিজের অধিকার ফিরে পেতে গাজীপুর সদর থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগ ও মালেকা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৪৬ বছর আগে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার শরবেশ আলীর মেয়ে মালেকা বেগমের সঙ্গে সদর থানার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা শাজাহানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মো. মাসুদ রানা ও মো. মামুন হোসেন নামে দুই ছেলে রয়েছে। তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিবাহিত।

মালেকার অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে বাবার বাড়ি থেকে ১০ কাঠা জমি নিয়ে আসেন তিনি। পরে তার স্বামী শাজাহান সেই জমি বিক্রি করে দেন। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় তিন বছর আগে মালেকাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাজাহান। এরপর দুই ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে মালেকাকে তালাক দেন তিনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

3cd288cd-e150-43d3-81cb-19084d696fa5

মালেকার আরও অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তিনি নিজের বাসায় থাকা অবস্থায় শাজাহান, তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজন মিলে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর বাড়ির পাশের একটি গোয়ালঘরে আশ্রয় নেন তিনি। প্রায় এক মাস ধরে সেখানেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান মালেকা।

মালেকা বেগম বলেন, “সংসারের সুখের আশায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ১০ কাঠা জমি নিয়ে এসেছিলাম। এত বছর সংসার করার পর এখন দ্বিতীয় বিয়ে করে আমাকে তালাক দিয়েছেন। এখন আমি এক মাস ধরে গোয়ালঘরে থাকছি। আমি আমার অধিকার ফিরে পেতে চাই।”

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের পর মালেকার এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মালেকার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

নড়াইলে ভাশুরের বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাজাহান দাবি করেন, ১০ কাঠা জমি তিনি নিজেই কিনেছিলেন। পারিবারিক ঝগড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেননি বলে স্বীকার করেন শাজাহান।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিপঙ্কর দত্ত বলেন, “পূজার ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। থানায় ফিরে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর