বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নড়াইলে ভাশুরের বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ এএম

শেয়ার করুন:

নড়াইলে ভাশুরের বাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ভাশুরের বাড়ি থেকে সাথী খানম (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর বেপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সাথী খানম লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর গ্রামের খাঁজা বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ায়। সাথীর স্বামী শাহাবুল ইসলাম পাখি প্রায় দুই বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। ঘটনার আগের দিন সাথী তার ভাশুর পলাশ শেখের বাড়িতে বেড়াতে যান। সঙ্গে ছিল তার তিন বছর বয়সী ছেলে রাজ।

পলাশ শেখ বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। সাথী তাদের সঙ্গে কথা বলে অন্য একটি কক্ষে যান। তার সন্তান তখন পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটি ওই কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি ও তার স্ত্রী ডাকাডাকি করেন। তাতেও দরজা না খোলায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে সাথীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন বলে জানান তিনি।

পলাশ শেখের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াসিন জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাথী তার কক্ষের কলিং বেল চাপলে তিনি বাইরে আসেন। এ সময় সাথী তাকে বলেন, পলাশ শেখ ফোন করলে বা কিছু জানতে চাইলে মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তার বাসায় এসেছিলেন—এ কথা জানাতে। এরপর ইয়াসিন নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বাইরে চিৎকার শুনে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উঠে সাথীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের বাবা খাঁজা বিশ্বাস বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পলাশ শেখ তাকে ফোন করে মেয়ের সমস্যা হয়েছে জানিয়ে দ্রুত বাড়িতে যেতে বলেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে সেখানে পৌঁছে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় তিনি লোহাগড়া থানায় লিখিতভাবে অপমৃত্যুর খবর জানিয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।

সাথীর মা নাছিমা বেগম বলেন, “আমার ভালো মেয়েটা গতকাল তাদের বাসায় এল। কী এমন ঘটল যে তাকে আত্মহত্যা করতে হলো? আমি ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই, বিচার চাই।”

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গোপীনাথপুর ব্যাপারীপাড়া এলাকায় এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাথী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর