শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে ঝালকাঠি ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়নে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি ডায়াবেটিক সমিতির সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি নির্মাণাধীন সৈয়দ মোয়াজ্জেম জেনারেল ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে আনুমানিক এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তারা এ রোগে ভুগছেন। তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। রোগের জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ‘থ্রি ডি’ নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা, ডায়েট বা সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ড্রাগ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে চলা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, সরকার শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে চায়। এ লক্ষ্যে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও স্বাস্থ্য হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করতে হবে।
ঝালকাঠি ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়নে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম বাড়ানো এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সবাইকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঝালকাঠি ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মো. হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার।
প্রতিনিধি/এসএস




