নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি নিহত ১৪ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় জানা গেছে। এ ঘটনায় তদন্তে নাটোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে শরীয়পুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), জাজিরা গ্রামের আবর আলীর ছেলে সামাদ ফকির(৭০), বড় কান্দি গ্রামের জহুরু উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার শালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাস চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮) রয়েছেন। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরীফুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, গতরাতে বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে আরপি স্পেশাল একটি বাস চাপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে ঝিনাইদহ থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ৯ জন যাত্রী নিহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও হাসপাতালে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
নাটোরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।




