রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সরাইলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

সরাইলে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিশোরীর মা বাদী হয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন জাকির মিয়া (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৫২), আলামিন ওরফে জিকিরি (৪০) ও বাহার মিয়া (২২)। তারা সবাই সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই কিশোরী ওয়াজ মাহফিল শুনতে বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের বাড়িউড়া সিরাজুল উলুম মাদরাসার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে বাড়িউড়া লাউয়ের খালের পাশের একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে, আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, জাকির মিয়া, নাঈম ও সোহাগ মিয়া কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলার পাঁচ নম্বর আসামি আলামিন ওরফে জিকিরি কিশোরীকে তার বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। কিশোরীর কান্না শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা অসুস্থ কিশোরীকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক গোপা পাল জানান, কিশোরীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কিশোরীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কিশোরীর মা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভুঁইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার ছয় নম্বর আসামি বাহার মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর