শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ছেলেকে অপহরণে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ যুবদল নেতার

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ছেলেকে অপহরণে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ যুবদল নেতার
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড যুবদল নেতা ইমান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ‘মাদকের চালান দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়াকে’ কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার পরিবারের ওপর নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই নেতার ছোট ছেলেকে অপহরণ করে আটকে রেখে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। পরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দুর্গাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও মিনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা ইমান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় জাহাঙ্গীরের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে তাঁদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে ওয়ার্ড যুবদল নেতা ইমান আলী বলেন, ‘উপজেলার শিমুলতলী এলাকার জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক কারবার, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।’

তিনি বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. রায়হানকে (২৩) ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় মুঠো ফোনে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে অপহরণ করে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা দাবি করা মুঠোফোন নম্বর শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরদিন বিকেলে রায়হানের হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

ইমান আলী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের ভয়ে আমরা এখন বাড়ি ছাড়া। পুরো পরিবার নিয়ে নিজের ভিটায় ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চাই।’ তিনি জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার, অভিযোগ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর। 

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক কিংবা অন্যের জমি দখল করিনি। এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে।

‘ইমান আলী ও তার পরিবারের সঙ্গে একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁদের কাছে আমি বেশ কয়েক লাখ টাকা পাই। পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরেই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। ’

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, ‘অপহরণের বিষয় নিয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে শুনেছি। দুর্গাপুর থানায় এ নিয়ে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর