দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গণিত শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা। তার স্নেহ, শাসন ও পাঠদানের স্মৃতিচারণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোহরাব উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদায়ী বক্তব্যে সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে। শিক্ষকতা জীবনে আমি কখনো স্কুল কামাই করিনি। আমার আত্মীয়-স্বজন মারা গেলেও আমি সব সময় স্কুলে এসেছি। তোমরা যারা আছো, সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। আমি যদি কখনো কোনো অন্যায় করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
তার বক্তব্যে শিক্ষকতা পেশার প্রতি দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর মমতার প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের প্রতি তার নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার কথা স্মরণ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শাখির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসাইন। সঞ্চালনা করেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাস্টার সাহেব আলী।
এ সময় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মিয়াদ আলী, সহসভাপতি সাফা উদ্দিন খাঁ, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
দীর্ঘদিনের পরিচিত শিক্ষককে বিদায় জানানো শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আবেগঘন মুহূর্ত। শ্রেণিকক্ষে তার পাঠদান, স্নেহ ও শাসনের স্মৃতি তাদের মনে থেকে যাবে। কর্মজীবনের ইতি টানলেও শিক্ষার্থীদের জীবনে তার শিক্ষা ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রতিনিধি/এসএস




