বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর তার কক্ষে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিভাবকরা। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পা ধরে মাফ চান।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা চালু রাখার দাবিতে সোমবার একদল অভিভাবক আন্দোলন করছিলেন। অন্যদিকে প্রাথমিক শাখা বন্ধের দাবিতে অধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনার জন্য যান দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান, সিয়াম ও জান্নাতের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। সেখানে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের কাছে স্মারকলিপি দেন অভিভাবকরা। এতে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তার পা ধরে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।
এ সময় অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তোমাদের চেয়ে মাত্র ছয় বছরের বড়। তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও। প্রাথমিক শাখার বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
এদিকে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। এক ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক তপন কুমার সাহাকে সৎ, আদর্শবান ও ভদ্র শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে তার সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানানো হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, বিএম কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করলেও তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি।
সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিক ও শালীনভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা হোক।’
প্রতিনিধি/এএইচ




