মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তি

পুলক পুরকায়স্থ, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তি
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরের লাঘাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে লাঘাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এতে কামারচাক ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মূল কাঠামোর কাজও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এবং দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই ফেরিঘাট সড়কের আওতাধীন লাঘাটা নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৬ জুলাই। প্রকল্পটির নির্ধারিত ব্যয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ভোলার প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় পাঁচ বছর হলেও সেতুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়কও ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এতে দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

1000248738

জানা গেছে, এলাকায় কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়া কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় দ্বিগুণ খরচে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

ইসলামপুর এলাকার শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে নদী পারাপারে তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় জমির ফসল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় ও টাকা লাগে। বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।

দক্ষিণ ইসলামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে স্থানীয় মানুষের সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে। তারা দ্রুত সেতুর বাকি কাজ ও দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানাই।

প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম, দ্রুতই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেতুটি পুরোপুরি চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেও মানুষ যদি এর সুফল না পায়, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।

1000248736

সম্প্রতি সরেজমিন গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর