মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নড়াইলে অসম্পূর্ণ নবগঙ্গা সেতু, নতুন দরপত্রের অপেক্ষায় এলজিইডি

মো. হাবিবুর রহমান, নড়াইল
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

শেয়ার করুন:

নড়াইলে অসম্পূর্ণ নবগঙ্গা সেতু, নতুন দরপত্রের অপেক্ষায় এলজিইডি
অসম্পূর্ণ নবগঙ্গা সেতু

নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর ফেদি বাজার ঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারা এবং বার বার সময় বাড়িয়েও তা অসম্পূর্ণ রাখায় যশোর ভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-এর চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা প্রাক্কলনে নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা নবগঙ্গা নদী। লোহাগড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। নদী পারাপারের সুনির্দিষ্ট সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল ও লোহাগড়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে ফেদি বাজার এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঢিলেঢালাভাবে কাজ চালাতে থাকে। দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, কাজ ৩০ শতাংশ বাকি থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

নদীর দুই পাড়ে বর্তমানে সেতুর অসম্পূর্ণ কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ফেদি বাজার ঘাটে এখন মাত্র দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। বিকল্প বা ঘুরতি পথ ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয়দের অতিরিক্ত সময় ও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি সময়মত চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের স্বাস্থ্যঝাঁকি বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। নড়াইলবাসীর প্রত্যাশা, এবার যেন কোনো ধরনের টালবাহানা ছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে তা সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর জানান, বারবার সময় দেওয়ার পরও চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিএল-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেতুটির অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর