মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, থানায় অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, থানায় অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মো. সাগর হোসেন (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের পর সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে একটি পোশাক কারখানায় অন্তত ৬ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পর ছেড়ে দিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে রোববার  (১১ অক্টোবর) বিকেলে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সাগর হোসেন।

সাগর ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী।

সাগর বলেন, রোববার বিকেল আনুমানিক পৌনে ৪টার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে বিসিকের একটি অফিসের ভেতর ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বিসিকের শাসনগাও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে মো. রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত সালাম জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির আস্থাভাজন কাছের লোক বলে পরিচিত।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরকে অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কারে তুলে বিসিকের শাসনগাও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি অফিসের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে লোহা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে তারা সাগরের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ওই মুঠোফোন থেকে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে। অন্যদিকে, তার বন্ধু শিমুল তাকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করে। বন্ধুর এই তৎপরতা টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে তাকে হুমকি দেয়, যদি তাদের দাবি করা টাকা না দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানানো তাহলে তাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে।

অভিযুক্ত রাইসার রোমানের হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। রোমান বলেন, আপনি একটু কষ্ট করে অফিসে আসেন। সামনা-সামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনা-সামনি কথা বলবো।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলমের সরকারি মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর