সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

শেয়ার করুন:

কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কলমাকান্দা বিদ্যালয়ের জমি ও সরকারি হালট থেকে ২২টি অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কলমাকান্দা শহরের কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালটে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনাগুলো ভাঙা ও নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা হয়।

দীর্ঘদিনের দখলদারির অবসানে স্বস্তি প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী লিখিত নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, জমি দখলমুক্ত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট ও কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এসব জায়গা দখলমুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুই দফায় মানববন্ধন করেন। পরে বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠ, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপসহ ছয় দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ। এ সময় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সেলিম বলেন, কলমাকান্দা মৌজার এসএ ১০ নম্বর দাগের সরকারি হালট এবং এসএ ৭৬ নম্বর দাগে অবস্থিত বিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যবসায়ী দখল করে রেখেছিলেন। গত এক সপ্তাহ ধরে এসব জায়গা ছেড়ে দিতে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় রোববার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করে জনস্বার্থ রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য।

উচ্ছেদ হওয়া দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত তিনজন ব্যবসায়ী বলেন, তাদের লিখিতভাবে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মৌখিকভাবে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখন কোথায় ব্যবসা করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মিয়া, নৈঋতা পত্র নবিস ও ইনতিশার অরোরা ফারহাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে তারা পরপর দুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় তাদের দাবি পূরণ হয়েছে। এতে তারা খুবই খুশি। এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায় তারা।

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর