শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

দুর্গাপূজা ঘিরে জমে উঠছে দিনাজপুরের কেনাকাটা

সুমন চন্দ্র, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্গাপূজা ঘিরে জমে উঠছে দিনাজপুরের কেনাকাটা
দুর্গাপূজা ঘিরে জমে উঠছে দিনাজপুরের কেনাকাটা

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে জমে উঠেছে দিনাজপুর শহরের কেনাকাটা। বড় বড় মার্কেট ও বিপণিবিতানের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে সাপ্তাহিক বউ বাজারেও। মালদহপট্টি, গুলশান মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতানে চলছে পূজার কেনাকাটা। তুলনামূলক কম দামে পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় বউ বাজারেও ভিড় করছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

দিনাজপুর শহরের বউ বাজার, মালদহপট্টি ও গুলশান মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে বউ বাজারে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনছেন, কেউ আবার সাধ্যমতো পূজার কেনাকাটা সারছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজারগুলো।

Dinajpur-1_(1)

শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে প্রস্তুতি। নতুন পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বাড়তি ক্রেতার চাহিদা সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারাও।

দিনাজপুর শহরের মালদহপট্টি ও বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় প্রতি শুক্রবার বসে বউ বাজার। রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতে সারি সারি দোকানে বিক্রি হয় থান কাপড়, শাড়ি, তৈরি পোশাক, লুঙ্গি, প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা, টুপি, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রীসহ নানা পণ্য। ভোর থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

Dinajpur-2_(1)

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বউ বাজারের পরিধিও বেড়েছে। শুরুতে মালদহপট্টি ও বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে চারুবাবুর মোড়, চুড়িপট্টি ও নিমতলা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বাজারটি। শুক্রবার এসব এলাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি দোকান বসে। বর্তমানে চার শতাধিক দোকানে চলে বেচাকেনা।

দিনাজপুর শহরের রায়সাহেববাড়ী এলাকার বাসিন্দা মিনতি রানী রায় বলেন, আমি নিয়মিত এই বাজার থেকে কাপড় কিনি। সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা, তাই এখান থেকেই পূজার কেনাকাটা সেরে নিয়েছি। বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে কাপড় পাওয়া যায়। বড় মার্কেটে এখন কেনাকাটা করা কঠিন, তাই আমার কাছে বউ বাজারই পছন্দের।

Dinajpur-4

সেতাবগঞ্জ এলাকার সাথী রানী রায় বলেন, পরিবারের সবার জন্য সেতাবগঞ্জে কেনাকাটা করেছি। তবে নিজের কিছু কেনাকাটা বাকি ছিল। তাই আজ দিনাজপুরে এসেছি। বউ বাজার ও বড় মার্কেট দুই জায়গা থেকেই কেনাকাটা করেছি। এখন কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফিরে যাব।

কাপড় বিক্রেতা শাকিল হোসেন বলেন, আমি মালদহপট্টির একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করি। সপ্তাহের ৬ দিন অন্যের দোকানে চাকরির পাশাপাশি শুক্রবার এই বাজারে দোকান দিয়ে বসি। এসে আমার একটু বাড়তি আয় হয়। বিশেষ করে ঈদ ও পুজার সময় এই বাজারে প্রচুর ভিড় হয়। সামনে দুর্গা পূজা। এই কারণে আজকে ভিড় অনেক বেশি। অনেক সময় তো ক্রেতাদের চাপে হিমসিম খেয়ে হয়েছে।

মালদহপট্টি ফুটপাত বউ বাজার দোকানদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বলেন, বাজারের নিরাপত্তায় সমিতির পক্ষ থেকে দুই নারীসহ মোট ছয়জন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সমিতির নেতারাও নিয়মিত বাজার তদারকি করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর