কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুলের সামনে থেকে সাত বছরের এক শিশুকে ডেকে বাইরে নিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে স্থানীয়রা ওই নারীকে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার সময় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় তিন-চারজন পুলিশ সদস্য আহত এবং পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইলমা (৭)। সে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জামাল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নাম ধরে ডাকছিলেন। একপর্যায়ে ওই নারী ইলমাকে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান।
বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থীদের নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে তারা দেখতে পায়, ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দফতরি শহিদুল্লাহকে জানানো হলে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও তার খোঁজে বের হন।
পরে শিশুটির বাবা বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় অটোরিকশাটির সন্ধান পান। সেখানে স্থানীয়রা ওই নারীকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর উত্তেজিত স্থানীয়রা ওই নারীকে মারধর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং সেখানে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শিশু ইলমার ভাষ্য, ওই নারী তাকে তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর নাম প্রিয়া (২৫) বলে জানা গেছে। তিনি নিজেকে বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তবে তার পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কিশো আর সুলতানা বলেন, ‘দুপুরে নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল এবং পরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিল। আমরা ম্যানেজিং কমিটির সভা ও শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তার আসার বিষয় নিয়ে দাপ্তরিক আলোচনায় ছিলাম। পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারি, এক নারী এসে এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আমরা দ্রুত খোঁজ শুরু করি।’
পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে স্কুল থেকে শিশুটিকে কেন নিয়ে এসেছিলেন, এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ফের মারধরের চেষ্টা করে। এ সময় তিন-চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ির একটি গ্লাসও ভেঙে গেছে।’
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
প্রতিনিধি/এসএস




