‘আমার মা আমার প্রথম শিক্ষক’ প্রতিপাদ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলার ৮০ নম্বর পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ১৫০ মাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনাড়ম্বর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, ইউপিইটিসির ইন্সট্রাক্টর রনু আহমেদ, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মোল্যা এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চণ্ডীচরণ পাল।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলী আসফিয়া বলেন, ‘আজ আমরা ১৫০ মাকে সম্মাননা দিচ্ছি। শিক্ষক দিবসে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা। তারা যেন প্রথম শিক্ষক হিসেবে মাকে সম্মান করে এবং একই সঙ্গে তাদের শিক্ষাগুরুকেও সম্মান জানায়—সেই বার্তাই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, এর আগে বিদ্যালয়ে ছোট পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হলেও এবারই বড় পরিসরে মায়েদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের উপস্থিতিও এবার বেশ ভালো ছিল। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ে এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘এটি অসাধারণ একটি আয়োজন। পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এটি সারা দেশের জন্যও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মা আমার প্রথম শিক্ষক’—এই বার্তা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মায়েদের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করা হচ্ছে। পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পিরোজপুর জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়েও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
ইউএনও আরও বলেন, পরবর্তী সভাগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে কীভাবে এ ধরনের আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে এ আয়োজন দেখে তারা অভিভূত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সদর উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিশুর জীবনে প্রথম শিক্ষাগুরু তার মা। মায়ের কাছ থেকেই শিশু ভাষা, আচরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা পায়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেই শিক্ষাকে আরও বিকশিত করে শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেন। তাই মা ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ১৫০ মায়ের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অনেক মা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধি/এসএস




