রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গ্যাসলাইন ছিদ্র করে অবৈধ সংযোগের চেষ্টা, বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্যাসলাইন ছিদ্র করে অবৈধ সংযোগের চেষ্টা, বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কুল্লাপাথর এলাকায় সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে অবৈধভাবে চুন ফ্যাক্টরিতে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি চক্র। ছিদ্রের কারণে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইনে বিকট শব্দে গ্যাস বের হওয়া শুরু করলে চক্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন। এসময় বিকট শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

খবর পেয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিএল) কর্তৃপক্ষ এসে দিনভর চেষ্টা চালিয়ে বিকেলে সঞ্চালন লাইন মেরামত করেন। 

বিডিসিএলের ভাষ্য, ঘটনার সাথে বাখরাবাদের কেউ জড়িত আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা  ও আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের ধুপখোলা গ্রামে প্রধান গ্যাসলাইন কেটে অবৈধ সংযোগ গ্রহণের চেষ্টায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে  বিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একটি আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন।

সংসদ সদস্যের আধা সরকারিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ধুপখোলা গ্রামে বাখরাবাদের সালদা গ্যাসক্ষেত্র থেকে কুমিল্লামুখী সঞ্চালন প্রধান গ্যাসলাইন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ওই প্রধান গ্যাসলাইন কেটে অবৈধভাবে একটি ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে প্রধান সঞ্চালন লাইনে অস্বাভাবিক গ্যাসের চাপ সৃষ্টি হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও জননিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি সরকারি গ্যাস সম্পদ ও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। 

বিষয়টি জরুরিভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রধান গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিডিসিএল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কুল্লাপাথর গ্রামটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। ঢাকার ২-৩ জন লোক তালমিছরির ফ্যাক্টরির কথা বলে কুল্লাপাথর গ্রামের মেহেদী হাসানের কাছে থেকে তাদের ২৪ শতকের একটি জমি ভাড়া দেন। কিন্তু তারা চুন ফ্যাক্টরি বানাতে সেখানে ধীরে ধীরে পাথর এনে রাখা শুরু করেন। উপজেলার ধোপখোলা, সাগরতলা ও নোয়াপাড়া এলাকার নির্জন গ্রামীণ সড়কের পাশেই সালদা গ্যাসক্ষেত্র ও বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন লাইন রয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সালদা-বাখরাবাদের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন লাইনে অবৈধভাবে ছিদ্র করে চুন ফ্যাক্টরিতে চিকন পাইন দিয়ে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালায় চোরাই চক্রের সদস্যরা। কিন্তু সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের তীব্র চাপের কারণে বিকট শব্দে গ্যাস বের হওয়া শুরু করলে পিছু হটতে বাধ্য হয় চক্রের সদস্যরা। অপরদিকে গ্যাস বের হওয়ার বিকট শব্দে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয়া জানায়, চোরাইচক্রের সদস্যরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস লাইনে ছিদ্র করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে তারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস লাইনের শব্দ ও নির্গত গ্যাসকে কেন্দ্র করে এলাকায় আগুন আতঙ্ক দেখা দেয়। শনিবার দিনভর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ চোরাইচক্রের ফুটো করা গ্যাস লাইনটি মেরামতের চেষ্টা চালায়। 

স্থানীয়রা বলছে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই গ্যাস লাইন ছিদ্র করা সম্ভব না। এখানে বাখরাবাদের লাইন বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। রাতের আঁধারে তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই মহাচুরি সম্ভব না।

কুল্লাপাথর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, এক মাস আগে ঢাকার ২-৩ জন লোক এসে গ্রামে আমাদের ২৪ শতক জায়গা ভাড়া নেয়। জায়গাটিতে অনেক গাছ ছিল বলে মাসিক ৬ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তি হয়। তারা তালমিছরির ফ্যাক্টরি করবে বলে জানায়। পরে দেখি, তারা বড় বড় ট্রাক দিয়ে পাথর আনছে। জানতে চাইলে পাথর গুড়া করে গলিয়ে চুন বানাবে বলে জানায়। রাস্তার পাশের গ্যাসের লাইন থেকে চুরি করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। এরপর থেকে তারা পলাতক। একটি চুক্তি করেছিলাম। সেখানে বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান সাক্ষী হয়েছিলেন।

বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ঢাকার লোকজন এখানে জায়গাটি ভাড়া নিয়েছিল। পরে জায়গাটির চারপাশে ২০ ফুট উঁচু বেড়া দেওয়া হয়। চুন ফ্যাক্টরি করতে তারা এখানে বড় বড় পাথর এনেছিল। অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালায় তারা।  

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ জাহিদুর রেজা বলেন, এটি গতকাল (শনিবার) মেরামত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি পরিত্যক্ত চুন ফ্যাক্টরি পাওয়া গেছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে ওই চুন ফ্যাক্টরির লোকজন সংযোগ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা বিফল হয়েছে। এ ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর