‘বান্দরবানবাসী’ ফেসবুক পেজের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘স্মার্ট নেটিজেন কুইজ ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বান্দরবান গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তোলে দেওয়া হয়।
স্মার্ট নেট সিটিজেন কার্যক্রমে পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী মানুষ অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে ১৩৭ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং।
প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বান্দরবান দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা, বান্দরবান সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমানুর রহমান প্রামানিক, বান্দরবান বেতারের উপস্থাপক হোসনে আরা খানম শিরিন, সহকারী গণগ্রন্থাগার কর্মকর্তা রিকেন চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ‘স্মার্ট’ মানে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়,কাজে, চিন্তায় ও মননে স্মার্ট হওয়া। আর এই ধারণাকে সামনে রেখে ‘বান্দরবানবাসী’ ফেসবুক পেজটি লাখো মানুষের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘বান্দরবানবাসী’ ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ফরিদুল আলম সুমন আলোকচিত্র ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে পেজটির বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ‘বান্দরবানবাসী’ ফেসবুক পেজের সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। দীর্ঘ ১১ বছরের পথচলায় পেজটি বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
ফরিদুল আলম সুমন বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে এক পর্যটকের হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগ উদ্ধারে ‘বান্দরবানবাসী’ পেজে পোস্ট দেওয়ার পর তা ফিরে পান নোয়াখালী থেকে আসা ওই পর্যটক। এ ঘটনায় তিনি পেজটির অ্যাডমিন ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকায় অসুস্থ রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে পেজে পোস্ট দেওয়ার পর দ্রুত সাড়া পাওয়া গেছে। এমনকি একবার রুমা জোন থেকে সেনাবাহিনীর গাড়ির ব্যবস্থা করে রোগী পরিবহনে সহযোগিতা করা হয়।
গত জুলাই মাসের বন্যার সময়ও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ ও প্রয়োজনের কথা ‘বান্দরবানবাসী’ পেজে পোস্ট করার পর অনেক ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ ধরনের হাজারো ঘটনা পেজটির মাধ্যমে মানুষের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমানুর রহমান বলেন, তার একটি ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার পর ‘বান্দরবানবাসী’ পেজে বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট করেন। পরে এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ব্যাগটি ফিরে পান তিনি।
বক্তারা বলেন, সুন্দর বান্দরবান গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ডিজিটাল বিপ্লবের এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ‘বান্দরবানবাসী’ গ্রুপের অ্যাডমিন ম্যানেজার প্রেমা দাশ, নাগরিক সাংবাদিক মো. ইব্রাহিম, মেজবাতুল, উসিংম্যা মারমাসহ পেজের সদস্য ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিনিধি/এএম




