বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বাজারের পাহারাদার ভোরে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ১৩টি দোকান ও দোকানে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বলীপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নীহার বিন্দু চাকমা ঢাকা মেইলকে বলেন, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পারভীন নামে এক নারীর চায়ের দোকান থেকে স্থানীয়রা প্রথমে আগুন দেখতে পান। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
নীহার বিন্দু চাকমা বলেন, ‘আমার দুটি দোকানে কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন, জেনারেটরসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। শুধু আমার দুই দোকানেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৩টি দোকানে অন্তত দেড় কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৩টি দোকানের কোনো ব্যবসায়ীই রাতে দোকানে থাকেন না। সবাই দিনের বেলায় ব্যবসা শেষে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তাই রাতে দোকানে কেউ না থাকায় কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তবে বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বলীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকান ও দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত পাঁচ বছরে বলীপাড়া বাজারে এ নিয়ে তিনবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ ও ২৫ মার্চ পরপর দুইবার বাজারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই দুই ঘটনায় বলীপাড়া বাজারের ৪৫টি দোকান ও ভাসমান কাঁচাবাজারসহ মোট ৫২টি দোকান পুড়ে যায়।
বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা এবং বাজারের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




