শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইউটিউব দেখে বিমান বানিয়ে উড়াল রংপুরের দশম শ্রেণির সামিউল

রেজাউল করিম জীবন, রংপুর
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইউটিউব দেখে বিমান বানিয়ে উড়াল রংপুরের দশম শ্রেণির সামিউল
সামিউল ইসলাম, শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আকাশে উড়ছে বিমান। তবে এটি কোনো এয়ারলাইনসের বিমান নয়; রংপুরের এক কিশোরের তৈরি রিমোট নিয়ন্ত্রিত বিমান। রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে নিজের তৈরি বিমানটি আকাশে উড়িয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। তার তৈরি বিমান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ।

সামিউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হজরতপুর ইউনিয়নের রামেশ্বরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই আকাশে বিমান দেখলে কৌতূহল জাগত সামিউলের। সেই আগ্রহ থেকেই ইউটিউবে বিমান তৈরির বিভিন্ন ভিডিও দেখতে শুরু করে সে। শুধু ভিডিও দেখে থেমে থাকেনি সামিউল। প্রায় এক মাসের চেষ্টায় তৈরি করেছে ৫৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত বিমান। এতে ব্যবহার করেছে ২২০০ কেভির একটি মোটর। সামিউলের দাবি, বিমানটি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে।

কখনো খোলা মাঠে আকাশের দিকে চোখ, আবার কখনো হাতে রিমোট কন্ট্রোল—নিজের তৈরি বিমানটি আকাশে উড়তে দেখে আনন্দে মেতে ওঠে সামিউল।

আরও পড়ুন

ইউটিউবে ভিডিও দেখে শুরু, কেঁচো সারে বদলে গেল রাজবাড়ীর সাবানার ভাগ্য

সামিউল জানায়, বিমানটি তৈরি করতে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে কাজ শুরু করেছিল সে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বাবা ও চাচাদের কাছ থেকেও টাকা নেয়। শুরুতে ছেলের এমন কাজে পরিবারের আপত্তি ছিল। সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তাকে ধমকও শুনতে হয়েছে। তবে তাতে দমে যায়নি সামিউল। চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত বিমানটি উড়াতে সক্ষম হয়েছে।

সামিউলের তৈরি বিমানটি এখনো কোনো কিছু বহন করতে পারে না। তবে তার স্বপ্ন অনেক বড়। ভবিষ্যতে মানুষ বহনে সক্ষম জেট বিমান তৈরির স্বপ্ন দেখে সে। পাশাপাশি বিমান প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করে দেশের বেসামরিক বিমান খাতে কাজ করতে চায় সামিউল।

student

সামিউলের সহপাঠী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের সহপাঠীর জন্য গর্বিত। সামিউলের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সে খুবই মেধাবী। অল্প দিনের মধ্যেই একটি বিমান বানিয়েছে। আমরা চাই, সে ভবিষ্যতে বিমান তৈরির কাজে যুক্ত হোক।’

সামিউলের মা আমেনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বিমান বানিয়েছে, এতে আমি খুব খুশি। আমি চাই, সে বিমান তৈরির কাজ করুক। সরকার যদি ছেলেটির দিকে একটু নজর দিত, তাহলে সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারত। এজন্য সরকারের কাছে আমার আবেদন, সরকার যেন আমার ছেলের জন্য কিছু করে।’

সামিউলের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘সামিউল খুব শান্ত স্বভাবের। কিন্তু সে এতটা মেধাবী, তা আগে জানা ছিল না। তার তৈরি বিমান উড়তে দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। আমি আশা করি, সরকার এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে। তারাই একদিন দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’

প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোর সামিউলের হাতে নেই বড় কোনো গবেষণাগার বা আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ। আছে কেবল আগ্রহ, স্বপ্ন ও নিজের মতো করে শেখার চেষ্টা। সেই চেষ্টা থেকেই ইউটিউবের ভিডিও অনুসরণ করে তৈরি করেছে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বিমান।

সামিউলের এই উদ্যোগে মুগ্ধ সহপাঠী ও এলাকাবাসী। তার তৈরি বিমান দেখতে প্রতিদিনই অনেকে ভিড় করছেন। পরিবারের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সামিউল ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার সুযোগ পাবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর