টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলের গাবসারা মৌজার ১৭টি সিটের বিআরএস জরিপ বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১৩ গ্রামের জমির মালিকেরা। তাদের দাবি, নতুন করে ডিজিটাল জরিপের সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার জমির মালিক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, ১৯৯৬ সালে ভূঞাপুর উপজেলায় বিআরএস জরিপের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। এর ধারাবাহিকতায় গাবসারা ইউনিয়নের চর গাবসারা মৌজায় ১৭টি সিটে নকশার কিস্তির কাজ শেষ করে ডিপি খতিয়ান তৈরি এবং জমির মালিকদের মধ্যে মাঠ পর্চা বিতরণ করা হয়। ১৯৯৭ সালে তাদের মাঠ পর্চা দেওয়া হয়।
এরপর ১৯৯৯ সালে অ্যাটেস্টেশনের কাজ শেষ হয়। প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের বিপরীতে তিন শতাধিক ৩০ ধারা আপত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত এসব আপত্তি যথাযথ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে কিছু ৩১ ধারা আপত্তি চলমান থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত কারণে জরিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
জরিপ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই মৌজাগুলোতে হালনাগাদ খাজনা ও নামজারিও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন জমির মালিকেরা। এতে প্রায় ১৩ গ্রামের মানুষ জমি কেনাবেচা ও ব্যাংকঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাধ্য হয়ে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ পূর্বের জরিপ বহাল রাখার দাবিতে এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া হয়। পরে জরিপ অধিদফতর সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একটি দল গঠন করে। পরিদর্শন শেষে ওই দল মৌজাটি নদীপ্রবাহিত বলে প্রতিবেদন দেয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ওই প্রতিবেদনকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, এসব মৌজার চারপাশের সব মৌজার জরিপ অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়েছে। শুধু একটি মৌজা নদীপ্রবাহিত হতে পারে না। তাদের দাবি, এসব জমি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনের পর গত ৩ সেপ্টেম্বর গাবসারা মৌজার জরিপ বাতিল করে নতুন ডিজিটাল জরিপ করার নির্দেশ দেয় জরিপ অধিদফতর। এতে ১৩ গ্রামের জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাআলম শাপলা। এ সময় বিএনপি নেতা আক্তার হোসেন ফকির, ইউপি সচিব মো. সোহরাব হোসেনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৯৯৬ সালের জরিপ বহাল রাখার দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোবিন্দাসী-টাঙ্গাইল সড়ক এবং তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের কুঠিবয়ড়া এলাকায় মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা।
প্রতিনিধি/এসএস




