বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরি, পিকআপসহ গ্রেফতার ৪

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরি, পিকআপসহ গ্রেফতার ৪

ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তবিভাগীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্য এবং চুরি করা ওষুধ কেনার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কুকিবাজিত গ্রামের মৃত বাবু মিয়ার ছেলে মো. রাজু মিয়া (৩২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইর বাকপাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পশ্চিম পুড়াদিয়া গ্রামের মৃত আজম আলীর ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বঙ্কিম চন্দ্র সরকারের ছেলে শিখর চন্দ্র সরকার (৩০)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরে কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথের ওষুধের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চোরেরা দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের দামি ওষুধ নিয়ে যায়। চুরি হওয়া ওষুধের আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় দোকানের মালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে মামলা করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য গ্রেফতার

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ রাজু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেনের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরপর বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, চুরি করা ওষুধগুলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শিখর চন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে শিখর চন্দ্র সরকারকে তার নিজ দোকান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

2c091585-a8d0-42a2-bf38-f1e85c1d5bd9

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শিখর চন্দ্র সরকার পুলিশকে বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি ওই তিনজনের কাছ থেকে চুরি করা ওষুধ কিনেছিলেন। পরে তার বসতবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারে থাকা দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা ওষুধগুলো দোকানের মালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ শনাক্ত করেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে রাজু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেন আন্তবিভাগীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আরও কেউ বা কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর